শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে খাদ্য: কোন কোন পুষ্টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
জন্মের পর প্রথম ৬ মাস বাচ্চাকে শুধু বুকের দুধ খাওয়ানোর পর থেকে বাড়তি খাবার দিতে বলা হয়, কিন্তু সেই বাড়তি খাবার দিতে বাঁধে বিপত্তি,কারন যে খাবার গুলো দেয়া হচ্ছে সেগুলো আদৌও বাচ্চার মস্তিষ্কের বিকাশে ঠিকঠাক পুষ্টি দিচ্ছে তো? তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হচ্ছে, ঠিক কোন কোন পুষ্টি বাচ্চার মস্তিষ্কের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন?
আজ জেনে নেয়া যাক এ সম্বন্ধে-
১.প্রথমেই যে পুষ্টি উপাদানটির নাম বলবো সেটি হচ্ছে Omega-3 ফ্যাটি এসিড (DHA এবং EPA), এটি মস্তিষ্কের নিউরন এবং স্নায়ুকোষের মেমব্রেন তৈরি করে শিশুর মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যকারিতায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি শিশুর শেখার আগ্রহ ও মনোযোগ বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।
কোন খাবারে পাবেন? সামুদ্রিক মাছ যেমন টুনা বা স্যালমন, ডিম এবং বাদাম জাতীয় খাবারে।
২.প্রোটিন, যা কেবল শরীর গঠনে নয়,মস্তিষ্কের কোষ তৈরিতেও ভূমিকা রাখে।
যে খাবারে পাবেন- ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, ডাল এবং সয়াবিন জাতীয় খাবারে।
৩.আয়রন, অল্প পরিমানে লাগলেও তার অবদান কিন্তু ব্যাপক, সে সাহায্য করে শিশুর মস্তিষ্কে অক্সিজেন পরিবহনে, মনোযোগ, স্মৃতির ক্ষমতা বাড়ায়।
যে খাবারে পাবেন- কলিজা, ডিমের কুসুম, গরুর মাংস এবং পালং শাকে।
৪.জিঙ্ক, আরো একটি গুরুত্বপূর্ন উপাদান নিউরোনাল যোগাযোগ ও স্নায়ুতে সিগন্যাল পাঠাতে সহযোগী। এবং রুচি বর্ধকও। শিশুর আচরণেও এটি ভূমিকা রাখে।
যে খাবারে পাবেন- বাদাম,বীজ জাতীয় খাবার, ডাল, ডিম, মাংস।
৫.আয়োডিন, শুধু গলগন্ডের জন্যই নয়, মস্তিষ্কেও এর ভূমিকা আছে। থাইরয়েড হরমোন এর মাধ্যমে মস্তিষ্কের বৃদ্ধি ঘটায়। সাহায্য করে ব্রেনের মায়েলিন গঠনেও। এবং শিশুর IQ বা বুদ্ধিমত্তা বাড়াতে এর জুড়ি মেলা ভার।
যে খাবারে পাবেন- লবন তবে অবশ্যই আয়োডিনযুক্ত হতে হবে, সামুদ্রিক মাছ, ডিম ও দুধ জাতীয় খাদ্যে।
৬.ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, বিশেষ করে B6, Folate আর B12 শিশুর মস্তিষ্কের কোষ তৈরি থেকে শুরু করে স্নায়ুজনিত রোগ থেকে রক্ষা আর দেহে রক্তশূন্যতা দূরকরণে আয়রনের পাশাপাশি এও বেশ সাহায্য করে।
যে খাবারে পাবেন- ঢেকি ছাটা চাল,কলিজা,ডিম,দুধ,ডাল ইত্যাদি খাদ্যে।
৭.ভিটামিন ডি, মস্তিষ্কের সিগন্যালিং ও নিউরন তৈরি থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় এর বেশ অবদান আছে।
যে খাবারে পাবেন- ডিম, দুধ, ফর্টিফাইড যে কোনো খাদ্যে। সূর্যের আলোও ভালো উৎস তবে জেনে রাখা দরকার সরাসরি ভিটামিন ডি সূর্যের আলো থেকে মিলে না।
৮.অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস যেমন ভিটামিন ই, সি ও বিটা ক্যারোটিন, মস্তিষ্কের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হওয়া থেকে বিরত রাখে। পাশাপাশি মস্তিষ্কের কোষের সার্বজনীন সুরক্ষায়ও এর অবদান আছে।
যে খাবারে পাবেন- হলুদ বা কমলা যে কোনো ফল বা সবজি যেমন গাজর,মিষ্টি কুমড়া, আম, বেরি জাতীয় ফল, বাদাম, বীজ জাতীয় খাদ্যে।
৯.মিনারেলস যেমন ক্যালসিয়াম আর ম্যাগনেসিয়াম, শুধু হাড় গঠনে নয়, সাহায্য করে বুদ্ধিমত্তা ও মানসিক বিকাশেও।
নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে জন্ম নেয়া শিশু বা প্রিম্যাচিউর বাচ্চাদের মস্তিষ্কের জন্যও এগুলো বেশ ভালো উপাদান।
যে খাবারে পাবেন- শাকসবজি, দুধ,বাদাম।
বাচ্চার মস্তিষ্ক বিকাশে উপরোক্ত উপাদান গুলো অতীব জরুরি,তাই বাচ্চার জন্য সঠিক খাবার বেছে নিন, তাহলেই তার মস্তিষ্কের যথাযথ বিকাশ ঘটবে।
