কিশোর-কিশোরীদের পুষ্টি: জনস্বাস্থ্যের অনুপস্থিত যোগসূত্র

কিশোর বয়স এক সঙ্কটকাল: অপুষ্টি, রক্তস্বল্পতা এবং বাড়তে থাকা স্থূলতা মিলে এক “দ্বৈত বোঝা” তৈরি করছে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় প্রায় উপেক্ষিত। ডেটা-ভিত্তিক বিশ্লেষণ, নীতি-প্রস্তাব ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে কিশোর পুষ্টিকে কেন্দ্রীয় স্থানে আনা জরুরি।

কেন কিশোর বয়সে পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ

১০–১৯ বছর বয়স হলো বেড়ে ওঠার দ্বিতীয় সুযোগ। এ সময়ে সঠিক পুষ্টি না পেলে পড়াশোনার ক্ষতি, মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে রক্তস্বল্পতা, অপুষ্টি এবং দ্রুত বাড়তে থাকা স্থূলতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় সংকট হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ

  • অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা: বিশ্বে প্রায় ৩৯০ মিলিয়ন কিশোর-কিশোরী অতিরিক্ত ওজনের, এর মধ্যে ১৬০ মিলিয়ন স্থূলতায় ভুগছে।
  • অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: অনেক কিশোর নিয়মিত সকালের নাস্তা বাদ দেয়, ফল-সবজি কম খায় এবং ফাস্ট ফুড ও সফট ড্রিঙ্ক বেশি খায়।
  • দ্বৈত বোঝা: একই দেশে, এমনকি একই পরিবারে দেখা যায় কেউ ভুগছে অপুষ্টিতে, আবার কেউ ভুগছে স্থূলতায়।

কেন তারা পিছিয়ে থাকে?

  • নীতির সীমাবদ্ধতা: সরকারি কর্মসূচি শুধু ছোট শিশু ও গর্ভবতী নারীর দিকে বেশি নজর দেয়।
  • স্কুল ও খাদ্য পরিবেশ: স্কুলে পুষ্টিকর খাবারের অভাব, অথচ বাইরে সহজেই পাওয়া যায় জাঙ্ক ফুড।
  • লিঙ্গভিত্তিক ঝুঁকি: মেয়েদের মাসিক ও অল্প বয়সে বিয়ের কারণে রক্তস্বল্পতা বেশি দেখা যায়।
  • অর্থনৈতিক বৈষম্য: গ্রামীণ কিশোররা ভোগে অপুষ্টিতে, আর শহরে বাড়ছে স্থূলতা।

সমাধান: কী করলে কাজ হবে

স্কুল-ভিত্তিক পদক্ষেপ: পুষ্টিকর স্কুল মিল, পুষ্টি শিক্ষা ও জাঙ্ক ফুডে নিয়ন্ত্রণ।
আয়রন-ফলিক এসিড সাপ্লিমেন্টেশন: রক্তস্বল্পতা কমাতে কার্যকর।
সামাজিক সুরক্ষা: নগদ সহায়তা ও পুষ্টি শিক্ষা একসাথে দিলে কিশোররা ভালো খাবার পেতে পারে।
নীতি ও কর ব্যবস্থা: চিনিযুক্ত পানীয়তে ট্যাক্স, ফল-সবজিতে ভর্তুকি, জাঙ্ক ফুড বিজ্ঞাপনে নিয়ন্ত্রণ।